
আব্দুল্লাহ আল সুমন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এর কার্যকারিতা তুলে ধরা এবং চিকিৎসকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএইচএমএ), ঠাকুরগাঁও শাখা।
আজ (১০ এপ্রিল) শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয় । র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেছেন ।র্যালি শেষে প্রেসক্লাব ভিআইপি হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঠাকুরগাঁও জেলার সভাপতি ডা. আবু মোঃ খয়রুল কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক রিফাত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলী ও বিভিন্ন উপজেলার ডক্টর ও সদস্যরা ।
আলোচনা সভা শেষে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের ৫ জন কৃতী সন্তানের মাঝে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনাপ্রাপ্তরা হলেন—
মির্জা গালিবা নওশিন, প্রভাষক, উদ্ভিদ রোগবিদ্যা বিভাগ, কৃষি অনুষদ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), দিনাজপুর;
মির্জা লুকমান নাকিব, বি.এ. (অনার্স) ও এম.এ. (ইংরেজি), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর;
সুব্রত দাস, এমবিবিএস (৫ম বর্ষ), আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা; রাসিফ নুর, এমবিবিএস (১ম বর্ষ), দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর;হেমায়েতুল্লাহ হিমু, এমবিবিএস (১ম বর্ষ), নীলফামারী মেডিকেল কলেজ, নীলফামারী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠটির সভাপতি ডা. বেলাল হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ সাঈদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ইতিহাস, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই চিকিৎসা ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, হোমিওপ্যাথি একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে আসছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন আরও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, আধুনিক গবেষণা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
আয়োজকরা আরও জানান, ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ২৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মকে এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রসার ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি শক্তিশালী বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।