1. nazirhossen6120@gmail.com : দৈনিক লোকবাণী : দৈনিক লোকবাণী
  2. info@www.lokobani.com : দৈনিক লোকবাণী :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

মানবাধিকার কমিশনকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

সেলিম
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে
LBTV
LBTV

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “এই আইনটি জাতিকে সামনের দিকে নেওয়ার বদলে পিছিয়ে দেবে।”

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এই মন্তব্য করেন তিনি। বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

১২তম দিন সকালের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

বিলের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজকের এই সংসদটি যে কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যারা এখানে এসেছেন তারা একটি ক্রান্তিকালীন সময় পার করে এসেছেন। অথচ জাতির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। আমরা সংসদে অনেক বিষয়ে সময় অপচয় করি, কিন্তু এমন মৌলিক বিষয়ে সময় না দেওয়াটা দুঃখজনক।”

২০০৯ সালের আইনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটি পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, এই কমিশনকে বিরোধী দল ও মত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে এই কমিশন। এমনকি আমরা কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের গুলি করা বৈধ।”

তিনি বলেন, “২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হবে সংসদের জন্য একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

কমিশনের সিলেকশন কমিটির গঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেন, “কমিশন গঠনের জন্য যে ছয় সদস্যের সিলেকশন কমিটি রয়েছে, সেখানে পাঁচ জনই সরকারদলীয় ব্যক্তি। স্পিকারের নেতৃত্বে কমিটিতে থাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারি দলের একজন এমপি ও একজন সচিব। এমন কমিটির মাধ্যমে গঠিত কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষ কাজ করবে? মূলত এটি একটি সরকারি দফতর বা বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে।”

মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেখানে বাহিনীগুলো সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, সেখানে ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী তদন্ত করতে বাহিনীর বা সরকারের পূর্বানুমতি লাগে। সরকার যেখানে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে কতটা স্বচ্ছ তদন্ত সম্ভব, তা সংসদের সবাই জানে।”

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। তবে হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন আইনমন্ত্রী।

সব পড়লেন, আইনটায় পড়লেন না: হাসনাতের পাল্টা বক্তব্যে আইনমন্ত্রী

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তৃতাকে ‘জুসি’ (রসালো) ও ‘রাজনৈতিক ময়দানের উপযোগী’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য সবকিছুই পড়েছেন, কিন্তু প্রস্তাবিত বিলের প্রথম লাইনটি পড়েননি।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। তার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি। বিলের প্রথম লাইনেই বলা আছে যে, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনে এবং মানবাধিকার কমিশনের শূন্যস্থান পূরণের জন্য আপাতত ২০০৯ সালের আইন রেস্টোর করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ত্রুটি তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছিল যাতে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও ঠিকমতো কাজ করতে না পারে। এর ১৬ নম্বর ধারায় তদন্ত ও জরিমানার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। মানবাধিকার কমিশন নিজেই বাদী হয়ে মামলা করলে, আইন আর নিরপেক্ষ থাকে না। গুম কমিশন নিয়েও আইনে অস্পষ্টতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিচার চাই, কিন্তু আইন হতে হবে স্বচ্ছ। কুড়িল বস্তি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল—সবার সঙ্গে পরামর্শ করে আইন সংশোধন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত কমিশন যাতে অচল না হয়ে পড়ে, সেজন্যই ২০০৯ সালের আইন বলবৎ রাখা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট