
এমআরইউ
আজ ০৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-০৮ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী রাফিকুজ্জামান ফরিদের নির্বাচনী পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পদযাত্রাটি বিকাল ৪ টায় পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে বক্স কালভার্ট রোড, ফকিরাপুল (গরম পানির গলি), বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা বাজার, শিল্পকলা একাডেমি প্রদক্ষিণ করে। ফকিরাপুল বাজার, বিজয়নগর, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাসদ (মার্কসবাদী) ‘র ঢাকা-০৮ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রবিউল করিম নান্টু সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক শুভাশিস চাকমা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহাতাব উদ্দিন, বাসদ (মার্কসবাদী) দলের ঢাকা নগর কমিটির সদস্য সুস্মিতা রায় সুপ্তি, ঢাকা-১৬ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য রাশেদ শাহরিয়ার, ঢাকা-০৭ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, ঢাকা-০৮ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী রাফিকুজ্জামান ফরিদ প্রমুখ।
মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য রাফসান আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা নগর শাখার সভাপতি নওশিন মুস্তারি সাথী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ প্রমুখ।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে গণমুখী রাজনীতির আকাঙ্খা ব্যক্ত হয়েছে। গণমানুষের পক্ষের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। কালো টাকা, মিডিয়া ও পেশীশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচনই আমাদের চাওয়া।”
রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, “এই গণঅভ্যুত্থান থেকে ফ্যাসিবাদ ধ্বংসের স্লোগান উঠেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতন মানেই ফ্যাসিবাদের পতন নয়। ফ্যাসিবাদ কোন দল আনে না, ফ্যাসিবাদ আনে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। আজকের যুগে কোন পুঁজিবাদী দেশই জনজীবনের সমস্যার সমাধান করতে পারে না। ফলে সে জনগণের বিক্ষোভ দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। অর্থাৎ পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মাত্রই সে আজ কমবেশি ফ্যাসিবাদী। জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছে, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায়নি ফলে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মেহনতি-শোষিত জনগণের জীবনের কোন পরিবর্তন আসেনি। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, ধনী-গরীব বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। এর বিপরীতে জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমরা জনগনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি।”
সমাবেশে সীমা দত্ত তার বক্তব্য বলেন, “আমাদেরকে ভোট দিলে আপনাদের অধিকার আদায়ের লড়াই শক্তিশালী হবে। স্বাধীনতার পর থেকে বড়লোকদের স্বার্থ রক্ষাকারী দলগুলো পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। আপনারা বারবার প্রতারিত হয়েছেন। এবার আপনাদের পক্ষের শক্তিকে চিনে নিন।”
রাফিকুজ্জামান ফরিদ শিল্পকলা একাডেমির সামনে সমাপনী পথসভায় বলেন, “ভাসানীর আপোষহীন নেতৃত্বের কারণেই এ দেশের জাতি গঠনের আন্দোলন চূড়ান্ত জায়গায় যেতে পেরেছিল। তিনি বলেছিলেন, “রাজনীতির কেন্দ্রে থাকবে মানুষ।” আমরা মওলানা ভাসানীর এই উত্তরাধিকার বহন করে জনগণের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে নিয়ে আন্দোলন করি। যে কোনভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট জোগাড়, সিট বাড়ানো, সিট সংখ্যা বাড়াতে যেকোনো দলের সাথে ঐক্য এই ধরনের নীতিহীন সুবিধাবাদী রাজনীতির চর্চা একটা যথার্থ মার্কসবাদী দল হিসেবে আমরা কখনও করিনি। আমরা মনে করি, সমাজবিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একমাত্র এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব। জনগণের সামনে নির্বাচন সম্পর্কে এই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা ও সংসদের অভ্যন্তরে শোষিত জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি উত্থাপন ও প্রতিবাদ ধ্বনিত করার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। একইসাথে সংসদের বাইরে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সংগ্রাম ও গণআন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্য নির্বাচনে লড়ি।”