নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় আজ বিকেলে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে পরিচিত মাওলানা আনিসুর রহমান কর্তৃক বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট
আজ বিকাল ৩টায় বিমানবন্দর গোল চত্বর এলাকায় স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ও সাধারণ এলাকাবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও জবরদখলকারী আনিসুর রহমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে স্থানীয় জনপ্রিয় নেতা আরিফ, ইমান আলী ও নাজমুল আজম (প্রিন্স) সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি সাজানো মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ৮(৪)২৬)।
বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
আনিসুর রহমান নিজেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলার আসামি।
তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১০টি ফৌজদারি মামলার চার্জশিট রয়েছে।
একজন চিহ্নিত অপরাধীর অভিযোগের ভিত্তিতে জনপ্রিয় নেতাদের নামে মামলা নেওয়াকে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে এলাকায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিতর্কিত আনিসুর রহমান পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গোপন বৈঠক করছেন। এই ঘটনার পর পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রশাসনের একটি অসাধু অংশ এখনো আওয়ামী দোসরদের সাথে আঁতাত করে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
‘মক্কা হোটেল’ ও দুর্নীতির আখড়া
বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয়রা বিমানবন্দর এলাকায় আনিসুর রহমানের মালিকানাধীন লাইসেন্সবিহীন 'মক্কা হোটেল' নিয়ে সরব হন। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এই হোটেলের আড়ালে জালিয়াতি, চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়রা এই হোটেলটিকে ‘অপরাধীদের আস্তানা’ হিসেবে চিহ্নিত করে এটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
ভুক্তভোগী নেতা প্রিন্স অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দোসর পেয়ার আলী ও আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এবং পুলিশের সহযোগিতায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের লুটপাট করা হয়েছে, আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, অথচ উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি।"
বর্তমান পরিস্থিতি:
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের অনড় অবস্থান—যতক্ষণ এই ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করা হচ্ছে না, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী আমলে যেভাবে পেয়ার আলী-আনিসুররা ‘বাহাদুরি’ দেখিয়েছেন, এখনো কি সেই ধারাবাহিকতাই চলবে?
দফায় দফায় গ্রেফতার ও উত্তেজনার আশঙ্কা: পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী অতিদ্রুত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিতর্কিত আনিসুর রহমানের গ্রেফতার দাবি করেছেন।