এমডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি গর্ভবতী গাভীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক পল্লী পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আরোপের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে,যথাযথ তদন্ত ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়াই তাকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা হয়েছে,যা নিয়ে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী মোঃ শাফী মহব্বত হামীম (পিতা: মৃত মকবুল হোসেন),গ্রাম আঠারজানি,বিরামপুর উপজেলার একজন পল্লী পশু চিকিৎসক। তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বিরামপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়,প্রায় দুই মাস আগে বিরামপুর উপজেলার বড়খুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আরশেদ আলী তার গর্ভবতী গাভীর চিকিৎসার জন্য শাফী মহব্বত হামীমকে ডেকে নেন। চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ আনুমানিক ৩-৪ হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে জানানো হলেও গরুর মালিক আংশিক অর্থ প্রদান করে বাকিতে ওষুধ আনতে বলেন।পরবর্তীতে নিজ উদ্যোগে ওষুধ সংগ্রহ করে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে পরদিন গরুটি মারা গেলে গরুর মালিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায় চাপিয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এ সময় স্থানীয় এক সাংবাদিককে ডেকে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরবর্তীতে বিষয়টি বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গড়ায়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা এবং ৫০ হাজার টাকা গরুর মালিককে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে একদিন থানা হাজতে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান এবং বাকি ৫০ হাজার টাকা ৭ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য লিখিত অঙ্গীকার দিতে বাধ্য হন। এদিকে,ভুক্তভোগী দাবি করেন,“গরুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কোনো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আমার চিকিৎসায় এমন মৃত্যু ঘটেনি। সঠিক তদন্ত ছাড়া আমাকে দোষী করা হয়েছে।”এ ঘটনায় স্থানীয় জন সাধারণও প্রশ্ন তুলেছেন,যথাযথ চিকিৎসা তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কীভাবে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো।
অন্যদিকে,বিষয়টি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য,দিনাজপুর-৬ এর নজরে আনা হলে তিনি বিরামপুর ইউএনও বরাবর নির্দেশনা দিয়ে বলেন,“কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হোক। তিনি একজন অসহায় নাগরিক।”
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। সচেতন মহল মনে করছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি, অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।