
আবু রায়হান স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার আটুলিয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদগুলো যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি কুচক্রী মহলের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তা অবশেষে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে। সংবাদের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ‘বাসার মেম্বার’ নিজের ভুল স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করায় এই অপপ্রচারের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রায় এক ডজন পত্রিকায় নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকরা একযোগে একটি গভীর অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকদের সুকৌশলে ভুল ও বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মূলত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে নায়েব আশরাফুজ্জামানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজ নষ্ট করাই ছিল ওই মহলের মূল লক্ষ্য।
বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনকারী পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— দূরন্ত ক্রাইম নিউজ, দৈনিক সাতক্ষীরা কণ্ঠ, দৈনিক সাতক্ষীরা তথ্য, দৈনিক আমাদের পত্রিকা, দৈনিক খবর বাংলাদেশ, বর্তমান সাতক্ষীরা, দৈনিক যশোর বার্তা, সাতক্ষীরা অবজারভার, দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা, দৈনিক সময় বার্তা, দৈনিক অভয়নগর, দৈনিক সুপ্রভাত এবং দৈনিক সাতনদী। বর্তমানে এই পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকরা সত্য অনুসন্ধানের পর নিশ্চিত হয়েছেন যে, তারা একটি কুচক্রী মহলের সাজানো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন।
পূর্ববর্তী সংবাদগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে, বাসার মেম্বারের কাছ থেকে দোকান বরাদ্দের নামে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন আশরাফুজ্জামান। তবে বর্তমানে বাসার মেম্বার নিজেই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি একটি মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন
“সরকারি নির্দিষ্ট ফি জমা দেওয়ার জন্য কিছু টাকা আমার মামার কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, যা কোনোভাবেই ঘুষ ছিল না এবং সেই টাকা অনেক আগেই ফেরত দেওয়া হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে ভুল বুঝিয়ে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিতে বাধ্য করেছিল। আশরাফুজ্জামান একজন অত্যন্ত ভালো ও সৎ লোক। আমি আমার ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
তদন্তে দেখা গেছে, নায়েব আশরাফুজ্জামানের রাজ হোটেলের পাশের ভবন বা আমতলা মোড়ের বাড়িসহ সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত এবং বৈধভাবে অর্জিত। ভূমি দস্যুতা ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই মহলটি ক্ষিপ্ত হয়ে এই অপপ্রচার চালায়।
এই মানহানিকর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নায়েব আশরাফুজ্জামান বলেন
“আমি সরকারের একজন সৎ কর্মচারী হিসেবে স্বচ্ছতার সাথে সেবা দিয়ে আসছি। বর্তমানে ভূমি অফিস সম্পূর্ণ ক্যাশলেস; এখানে কোনো নগদ অর্থ লেনদেন হয় না। আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সততার সহিত দায়িত্ব পালন করছি। সাংবাদিকদের দিয়ে যারা আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াতে বাধ্য করেছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমি অতি শীঘ্রই মানহানি মামলা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে নায়েব আশরাফুজ্জামানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার এই অপচেষ্টা সচেতন মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। সত্য উদঘাটিত হওয়ায় এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা এখন প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।