ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :
পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক মহিমান্বিত সময়। আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনা, তারাবির নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকার মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মসংযম, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার মাস।
নৈতিকতা ও আত্মসংযমের চর্চা জরুরি
সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান বলেন,
“রমজানের শিক্ষা কেবল খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়; বরং মিথ্যা, গীবত, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় কাজ পরিহার করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা।”
সাধারণ সম্পাদক মোঃ আহসান হাবীব উল্লেখ করেন,
“ব্যক্তিজীবনে সততা, সামাজিক জীবনে শালীনতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা নিশ্চিত করতে না পারলে রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না।”
সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ মোঃ জসীম সরদার বলেন,
“রমজান আমাদের ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। এ মাসে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।”
সহ-সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান যোগ করেন,
“বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভেজাল ও মজুতদারি রোধ করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা রমজানের পবিত্রতা রক্ষার অংশ।”
তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন,
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অশালীন কনটেন্ট থেকে বিরত থাকতে হবে। রমজান ইতিবাচক ও ধর্মীয় চর্চার মাস।”
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন,
“যাকাত আদায়, ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
চায়ের দোকান ও হোটেল পরিচালনায় সচেতনতা
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রমজান মাসে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে চায়ের দোকান ও হোটেল পরিচালনার বিষয়ে সংবেদনশীল আচরণের আহ্বান জানান। তারা বলেন—
রোজাদারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
প্রয়োজনীয় কারণ ছাড়া প্রকাশ্যে খাবার পরিবেশন থেকে বিরত থাকা উচিত।
অসুস্থ, ভ্রমণরত বা অমুসলিম নাগরিকদের জন্য সংবেদনশীল ও সীমিত ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
অশালীন পরিবেশ, উচ্চ শব্দ ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান বজায় থাকে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে।
সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব হবে। পারস্পরিক সহনশীলতা, দানশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নৈতিক সমাজ গঠন করা সম্ভব।
রমজানের এই পবিত্র মাসে সকলকে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।