
আজহারুল ইসলাম সাদী:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা
২০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারাচ্ছেন ১১জন প্রার্থী।
সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০ জনের মধ্যে ১১ জন প্রার্থী তাঁদের জামানত হারাচ্ছেন। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের প্রাপ্ত ভোট জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত ৮ ভাগের ১ ভাগ (১২.৫%) ভোট পেতে হয়। সাতক্ষীরার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন তাঁদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। বাকি ১১ জনই প্রয়োজনীয় নূন্যতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা তাদের জামানত হারাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): এই আসনে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ছিল অন্তত ৪৬,৯৭৬টি ভোট। কিন্তু বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাদে বাকি তিন প্রার্থীর কেউই এই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে যেতে পারেননি। এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল- ২,৫৪৪ ভোট), শেখ মোঃ রেজাউল করিম (হাতপাখা- ২,০৭১ ভোট) এবং মোঃ ইয়ারুল ইসলাম (ডাব- ৭১৫ ভোট)।
সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা): এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য দরকার ছিল ৪৯,৪০৭টি ভোট। এই আসনে জামায়াত ও বিএনপি ছাড়া বাকি সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: মোঃ আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল- ৪,২৭৮ ভোট), মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা- ১,৯৭৬ ভোট) এবং মোঃ ইদ্রিস আলী (মোটরগাড়ি- ৩১৭ ভোট)।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): এই আসনে লড়াই ছিল ৬ জনের মধ্যে। জামানত রক্ষার জন্য ৪৪,৫৬৩টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও এখানে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন ৩য় হয়েও ৫৬,৮১৯ ভোট পাওয়ায় তাঁর জামানত বেঁচে গেছে। তবে বাকি ৩ জন তা রক্ষা করতে পারেননি।
এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: মোঃ ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা- ২,৪৯৭ ভোট), মোঃ আলিপ হোসেন (লাঙ্গল- ৭২২ ভোট) এবং রুবেল হোসেন (রকেট- ৫৮৩ ভোট)।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): এই আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন জামানত রক্ষা করেছেন। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ভোট দরকার ছিল ২৫,২৪৫টি। এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: এস, এম, মোস্তফা আল মামুন (হাতপাখা- ৪,৯০২ ভোট) এবং মোঃ আব্দুর রশীদ (লাঙ্গল- ১,১৪২ ভোট)।
এদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম চমক দেখিয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও, সবার নজর কেড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম। তিনি ফুটবল প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনকে (৫৬,৮১৯ ভোট) প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিপুল জনসমর্থন পাওয়ায় ডা. শহিদুল আলম সগৌরবে তাঁর জামানত রক্ষা করেছেন। ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা জেলার কোনো আসনেই প্রভাব ফেলতে পারেননি। চারটি আসনেই লাঙ্গল ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। মূলত জামায়াত ও বিএনপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী ভোটারদের তেমন আকৃষ্ট করতে পারেননি। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতার জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।