
মোঃ সেলিম রেজা বাচ্চু: বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ গভীর সংকটকাল অতিক্রম করছে।
দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লংঘন, সুস্থ ধারার রাজনীতির অভাব, দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার সংকট সাধারণ মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করলো।
যা ন্যায়, জ্ঞান ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই ইস্তেহারের মূল দর্শন হলো—দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, জাতি ও উপজাতি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ন্যায়সঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রচিন্তার ঘোষণা।
রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দুর্নীতি দমনে ‘জবাবদিহি কমিশন’ গঠনের অঙ্গীকার ইস্তেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের মাধ্যমে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মূলনীতি মানবতা। সেই আলোকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করে শিক্ষা, চিকিৎসা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মৌলিক সেবা নিশ্চিতকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার, বৈষম্য দূরীকরণ, প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন—সব মিলিয়ে এটি একটি সমন্বিত ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রদর্শনের প্রত্যয়। জ্ঞান ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশের সচেতন জনগণের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।
লেখক: সহকারী মুখপাত্র, বাংলাদেশ কংগ্রেস