
ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
আজ পবিত্র শবে বরাত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। সে হিসেবে শবে বরাত মানে মুক্তির রাত বা লাইলাতুল বরাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ রাত হিসেবে বিবেচিত।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা ও রহমতে আবৃত করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
(সুরা আজ-জুমার : ২৪)
হাদীসে বর্ণিত আছে, শাবান মাসের মধ্যরাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বলেন—
“আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?
আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থনাকারী, আমি তাকে রিজিক দান করব?”
(মুসলিম শরিফ – অর্থগত বর্ণনা)
এই মহিমান্বিত রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দরুদ পাঠে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। অতীত জীবনের গুনাহ ও ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের শান্তি, কল্যাণ ও হেদায়েত কামনা করে মোনাজাত করেন।
ইসলামি আলেমরা বলেন, শবে বরাত আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই রাতে ইবাদতের পাশাপাশি পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পবিত্র এই রাতের ফজিলত লাভের আশায় দেশব্যাপী মসজিদ ও ঘরে ঘরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদতে মশগুল রয়েছেন।
হে আল্লাহ! এই পবিত্র শবে বরাতের উসিলায় আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দিন, আমাদের জীবনকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন। আমিন।