
ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান,ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের দেবদুয়ার গ্রামে হাজারো গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তহৃদয়ের উপস্থিতিতে সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম শেখ হুমায়ুন কবির সিদ্দিকীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার ইন্তেকালে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জোহর নামাজের পর দেবদুয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়।
গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
ব্যক্তিজীবনে মরহুম শেখ হুমায়ুন কবির সিদ্দিকী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজ এলাকায় ফিরে এসে চাঁদখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড (দেবদুয়ার) থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। টানা প্রায় ৯ বছর তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসংখ্য অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের অর্থ ব্যয় করে অনেক সময় গরিব ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন। থানা-পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর কিংবা আদালতসংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় সাধারণ মানুষের ভরসার নাম ছিল “হুমায়ুন মেম্বার”।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জীবনের প্রান্ত সীমানায় এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আদর্শের উজ্জীবিত হয়ে সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যোগদান করেন।স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন পরিচিত, প্রভাবশালী ও জনবান্ধব নেতা। তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক, এমনকি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও তার ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। তার মৃত্যুতে সেসব সম্প্রদায়ের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক জীবনে মরহুম হুমায়ুন কবির সিদ্দিকী চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মেঝ ছেলে ছিলেন। বর্তমানে তার দুই ভাই—শেখ সেলিম ও শেখ বাহার জীবিত রয়েছেন। তার তিন বোন ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্র—শেখ তানভীর এবং শেখ আফ্রিদিকে রেখে গেছেন।
হঠাৎ এই মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন—আল্লাহ যেন তার জীবনের সৎকর্মের উছিলায় তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।